Wednesday, October 29, 2014

Antarctica মহাদেশের নাম Antarctica হবার কারণ কি?

উত্তর মেরুকে ইংরেজিতে বলা হয় arctic pole, শাব্দিক অর্থে ভল্লুকীয় মেরু বা আর্ক্ষিক বা ঋক্ষীয় মেরু। গ্রিক ভাষায় άρκτος, arktos মানে ভল্লুক। এই গ্রিক শব্দটির একই ইন্দো-ইউরোপীয় মূল থেকে এসেছে (cognates) সংস্কৃত শব্দ 'ঋক্ষ' এবং Latin শব্দ 'ursus', মানে ভল্লুক)।

উত্তর মেরুকে arctic pole বলার কারণ হল উত্তর মেরুর আকাশে বিশাল ভল্লুকটা (Great Bear, ঋক্ষেশ তারকামণ্ডল, Ursa Major) মাথার ঠিক ওপরে দেখা যায়। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ তারকামণ্ডলের মাধ্যমে উত্তর গোলার্ধে খুব সহজেই অন্ধকার রাতের আকাশে ধ্রুবতারা (Pole Star) চিনে নিয়ে উত্তর দিক খুঁজে পাওয়া যায়। আমাদের ভারতবর্ষে এই তারকামন্ডলের খালি চোখে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান অংশকে বলে 'সপ্তর্ষিমণ্ডল' মানে সাত ঋষির তারকামন্ডল, ইংরেজিতে বলে The Big Dipper, মানে বড় চামচ।

চিত্র: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের পতাকায় সপ্তর্ষিমণ্ডল আর ধ্রুবতারা।

এখন ভৌগলিকভাবে উত্তর মেরুর বিপরীতে হল দক্ষিণ মেরু বা antarctic pole. গ্রিক αντι, anti মানে হল বিপরীত। তাহলে antarctic মানে হল ভল্লুকীয় বা আর্ক্ষিক মেরুর বিপরীত মেরু সম্পর্কিত; বৈয়ার্ক্ষিক। তাই দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত এই মহাদেশের নাম Antarctica! :)

উত্তর মেরুতে কোন মহাদেশ নেই, তাই Arctica বলে কোন মহাদেশ নেই, কিন্ত ওখানে আছে এক বিশাল মহাসাগর যাকে আমরা বলি Arctic Ocean বা উত্তর মহাসাগর; অথবা বলা যেতে পারে 'আর্ক্ষিক মহাসাগর'। আর Antarctica মহাদেশকে আমি বাংলায় (বা সংস্কৃতে) নাম দিতে চাই, 'বৈয়ার্ক্ষিক মহাদেশ বা বৈয়ার্ক্ষ' (বি-ঋক্ষ+অ) :P

Tuesday, August 26, 2014

Mettypukre মানে মিঠাপুকুর!

আমাদের রংপুর জেলার "মিঠাপুকুর"কে (আধুনিক রোমানীকরণ Mithapukur) লেখা হয়েছিল "Mettypukre" [IPA: ˈmɛtɪˌpʊkɚ] (মেটিপুকার) ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সারভেয়ার-জেনারেল জেমস রেনেলের (James Rennell) করা বাংলা-বিহারের মানচিত্রে।

ব্রিটিশরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মুখে উচ্চারণ শুনে ইংরেজিতে তাদের মত করে বানান করত। যেমন ঢাকাকে লেখা হয়েছিল Dacca [ˈdækə] (ড্যাকা) , কলকাতাকে Calcutta [kəlˈkʌtə] (কালকাটা), রাজশাহীকে Raujeshy [ˈɹɔːd͡ʒəʃɑɪ] (রোজাশাই), ব্রহ্মপুত্রকে Burrampooter [ˌbʌɹəmˈpuːtɚ] (বারাম্পূটার), রংপুরকে Rungpour [ˌɹʌŋˈpɔː] (রাংপোর), মেদিনীপুরকে Midnapour [ˌmɪdnəˈpɔː] (মিডনাপোর) ইত্যাদি।

মিঠাপুকুরের কাছাকাছি এলাকার মধ্যে আরো আছে কাউনিয়া Cownyah, নবাবগঞ্জ Nabobgunge, লালবাগ Lolbeg, জোত দিলাল Judelell, রহমতপুর Rammatpour, কালিগঞ্জ Calleygunge, করতোয়া নদী Curtyah R., জালালগঞ্জ Jalalgunge. বড় দরগা-এর বানানটা সেই দরের - Burra Dirgah মনে হচ্ছে খাঁটি ইংরেজি শব্দ, উচ্চারণ [ˌbʌɹə ˈdɜːgə], অনেকটা [বারা ডার্গা] :D :P আরেকটা দেখলাম - লালমনিরহাটের পাটগ্রামকে লিখেছে Patgong [ˌpætˈgɑŋ] প্যাটগং, গাঁও বা গ্রাম বা গা-কে ব্রিটিশরা সব সময় -gong লিখেছে, যেমন চট্টগ্রাম বা চাটগাঁ Chittagong [ˌt͡ʃɪtəˈgɑŋ] চিটাগং,নওগাঁ Nowgong [ˌnaʊˈgɑŋ] নাউগং ।


এটা এতো আগের মানচিত্র যেখানে সিরাজগঞ্জ-টাঙ্গাইলের মাঝের আজকের বিশাল যমুনা নদীর অস্তিত্ব নেই (!), বরং আছে ময়মনসিংহের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদ, যা ২০০ বছর আগে হারিয়ে গিয়ে আজকের যমুনা তৈরি হয়েছে। ভূতাত্ত্বিকরা বলেন প্রায় ২০০ বছর আগে কয়েকটা ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে।


শুধু ব্রহ্মপুত্রই নয়, মানচিত্রটি ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদীও তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। আগে এ নদীটি রংপুরের উত্তর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্রে পড়ত না, বরং জলপাইগুড়ি হয়ে দিনাজপুর শহরের কাছে এসে পুনর্ভবা আর আত্রাইয়ে ভাগ হয়ে গঙ্গায় (পদ্মায়) পতিত হত। এটাও কি সেই ভূমিকম্পের ফল? হয়ত বা!

দেখুন সেই মানচিত্র।

চিত্র: ১৭৭৬ সালের জেমস রেনেলের মানচিত্রের একাংশে মিঠাপুকুর Mettypukre!

Tuesday, June 10, 2014

মুসলিম নেই, ইসলামী দেশ: ইসলামিত্ব সূচক

খবর: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ মুসলিম গবেষকের উদ্ভাবিত ইসলামিত্ব সূচক (Islamicity Index) অনুযায়ী কুরআনের মূল্যবোধের প্রতি অনুগত দেশসমূহের র্যাংকিং ২০১০এ প্রথম ১০ এ উঠে এসেছে পশ্চিমা দেশগুলো - আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, সুইডেন,যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর,ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, বেলজিয়াম।

প্রথম ২৫ এর মধ্যে কোনো মুসলিম দেশ নেই! মালয়েশিয়া (৩৩) আর কুয়েত (৪২) শুধু আছে প্রথম ৫০ এ। সৌদি আরব ৯১তম আর কাতার ১১১তম. ভারত ৯৭, শ্রীলংকা ১০৭, বাংলাদেশ ১৪১, পাকিস্তান ১৪৫। এবছর নাগাদ নতুন সূচক আসবে।

এই সূচক নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তারা মূলত দেখেছেন কিভাবে দেশগুলো তাদের সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে, শাসনব্যবস্থায়, মানবিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামী নীতিকে বাস্তবে প্রয়োগ করেছে। তারা বলেন, আমাদের বলতেই হবে যে অনেক দেশ যারা নিজেদেরকে ইসলামের অনুসারী বলেন তারা আসলে ন্যায়বিচারহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত, অনুন্নত এবং মূলত সার্বিক বিচারে অনৈসলামিক।
___________________________
মনে পড়ে যায়, কেউ একজন বলেছিলেন, আমি পশ্চিমে গিয়েছি, সেখানে ইসলাম দেখেছি কিন্তু মুসলিম দেখিনি; যখন পূর্বে ফিরে এলাম, মুসলিম দেখলাম, কিন্তু ইসলাম দেখলাম না।
আরো মনে পড়ে, ব্রিটিশ গায়ক ক্যাট স্টিভেন্স ইসলাম গ্রহণ করার পরে এক সময় বলেছিলেন, আমি কুরআন পড়ে ইসলামে এসেছি; যদি মুসলিমদের দেশে এসে শুধু তাদেরকে দেখে ইসলাম গ্রহণ করতে হত, তবে হয়ত আমার আর ইসলাম গ্রহণ করা হত না।


এতটাই নিচে আমরা মুসলিমরা আজ নেমে গেছি! নিজেদের দায়িত্ব আর আদর্শ ভুলে ইসলামকে শুধু বাপদাদাদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত একটি সম্পত্তি (ধর্ম) মনে করে নিজেদের ও সমাজের জীবন থেকে একে শুধু যে নির্বাসনে দিয়েছি তা নয়, সমাজে যাতে ইসলামী জীবন পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে সেজন্যে প্রচলিত জনপ্রিয় সব গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে নিজেদেরকে ভুলিয়ে রেখেছি, ঠিক যেমনটি করেছিল বনী ইসরাইলরা (অতীতের মুসলিম)। আর তাই আল্লাহর প্রতিশ্রুতিমত আমাদের উপর আজ নেমে এসেছে এই লাঞ্ছনা, অধঃপতন, দুরবস্থা ও অনটনের শাস্তি। আর তাঁর প্রতিশ্রুতি মত আমাদের জায়গায় অন্য কোন জাতিকে তিনি পৃথিবীর পরিচালনায় দাঁড় হয়ত করাচ্ছেন বা করিয়ে ফেলেছেন এবং বিভিন্নভাবে তাদেরকে দিয়ে আমাদের শাস্তি দিচ্ছেন।

আল্লাহ বলেন:
"অবশেষে (বনী ইসরাইলদের) অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌছলো যার ফলে লাঞ্ছনা, অধপতন, দুরবস্থা ও অনটন তাদের ওপর চেপে বসলো এবং আল্লাহর গযব তাদেরকে ঘিরে ফেললো৷ এ ছিল তাদের ওপর আল্লাহর আয়াতের সাথে কুফরী করার এবং পয়গম্বরদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার ফল৷ এটি ছিল তাদের নাফরমানির এবং শরীয়াতের সীমালংঘনের ফল৷" - সূরা বাকারাহ ৬১

"তোমরা যদি না (আল্লাহর পথে) বের হও তাহলে আল্লাহ তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের জায়গায় আর একটি দল/জাতিকে ওঠাবেন, আর তোমরা আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না৷ তিনি সব জিনিসের ওপর শক্তিশালী৷" - সুরা তাওবাহ ৩৯

"তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে আল্লাহ তোমাদের স্থানে অন্য কোন জাতিকে নিয়ে আসবেন৷ তারা তোমাদের মত হবে না৷" - সুরা মুহাম্মাদ ৩৮



সূত্র:
1. http://www.irishtimes.com/news/social-affairs/religion-and-beliefs/ireland-the-most-truly-muslim-country-in-the-world-1.1826354
2. http://relooney.fatcow.com/SI_Expeditionary/0-Important_87.pdf

Friday, February 14, 2014

ভালোবাসা?

ভালোবাসা?

-জাহিদ আকোন


ভালোবাসা সে তো মায়ের চোক্ষে ছোটটির জন্যে মায়া।
জন্মের পরে প্রসূতির ব্যথা পুরোপুরি ভুলে যাওয়া।
ভালোবাসা মানে ছোট্ট পায়ে সোনামণিটির গুটি গুটি হাঁটা ধরা।
দুই পা এগিয়ে এক পা পিছিয়ে সযতন হাতে - ধড়াস! করে পড়া।

ভালোবাসা মানে একটা মিষ্টি (না জেনে ভিতরে ট্যাবলেটসহ) গেলা!
মুখে পুরে দিয়ে চিবোতে গিয়ে মা-বাবার ধোঁকা ধরে ফেলাটার জ্বালা।
ভালোবাসা সে তো রাত-বিরেতে পিচ্চির হঠাৎ ভ্যাঁ করে কেঁদে ওঠা।
কান্না ভাঙাতে সেই ভররাতে বাবার সাথে একটুকু ঘুরে আসা।

ভালোবাসা মানে বিস্কুট নিয়ে দু-ভাইবোনের মারামারি শুরু করা।
একটু পরে ঝগড়া থামিয়ে দুইজনে মিলে ভাগাভাগি করে খাওয়া।
ভালোবাসা সে তো ক্লাসের বেঞ্চে সিট দখলের প্রতিযোগিতায় নামা।
সকালে নাস্তা শেষ না করেই সবার আগে ইসকুলে ছুটে যাওয়া।

ভালোবাসা সে তো মাঝে মাঝে ক্লাসে স্যারের বকুনি খাওয়া।
একশতে ফের নব্বই পেয়ে কলার উঁচু করে 'সেইরকম' ভাব নেওয়া!
ভালোবাসা মানে বন্ধুরা মিলে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া।
রমযান মাসে তারাবি নামাজে কোনমতে আট রাকাহ্ শেষে দৌড় দেওয়া।

ভালোবাসা সে তো বিটিভিতে সাড়ে আটটায় রাতে প্যাকেজ নাটক দেখা।
দশটার নিউজ পার করে জাগা; আর তার ফলে ওইঘর থেকে বাবার বকুনি খাওয়া।
ভালোবাসা কি সে শেষ বিকেলে বন্ধুরা মিলে প্রতিদিন সেই আড্ডা দেয়াটা নয়?
স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলা, ক্রিকেটের ম্যাচ- আরও কত খেলা, কত জয় পরাজয়!

ভালোবাসা সে তো মফস্বলের স্কুল শেষ করে সব ছেড়ে ছুড়ে শহরে কলেজে পড়া।
সীমার বাঁধন কেটে ফেলে দিয়ে অসীমের পানে অবিরাম ছোটা আচমকা শুরু করা।
ভালোবাসা মানে মেসে-ক্যান্টিনে বাধ্য হয়েই ছাই-পাশ খাওয়া-দাওয়া।
দু'মাস না যেতে মায়ের হাতের রান্নার ঘ্রাণ পেতে বাড়ি ছুটে যাওয়া।

ভালোবাসা মানে অনেক কষ্টে বুয়েটে অথবা মেডিকেলে চান্স পাওয়া।
অথবা কোথাও চান্স না পেয়ে রবার্ট ব্রুসের মাকড়সার মত অধ্যাবসায়ী হওয়া।
ভালোবাসা কি নয় ভার্সিটি-হলে সিট না পেয়ে গণরুমে বসবাস?
ভালোবাসা হল- রেজাল্ট খারাপ! উঠে পড়ে লাগ্, ফলাফল: হা-হুতাশ!!

ভালোবাসা হল একদিন এক মনের মতন মানুষের দেখা পাওয়া।
তার মন পেতে সব ভুলে গিয়ে পাগলের মত অদ্ভুত কিছু করা।
ভালোবাসা সে কি সেই তারই থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে যাওয়াটাও নয়?
দুঃখের চোট, জীবনে আঁধার; তবু চেয়ে দেখো, সময়ে সে করে ক্ষয়।

ভালোবাসা সে তো উচ্চশিক্ষা; এইবার দেখো দেশটাই ছেড়ে যাওয়া।
বিদেশের মাটি, নতুন পৃথিবী; প্রতি সপ্তাহে স্কাইপিতে উঁকি দেওয়া।
ভালোবাসা সেতো কত শহরের কত শত রঙ, কত রকমের মানুষের সাথে চলা।
দেশে দেশে ঘুরে, প্লেনে ট্রেনে চলে, তুষারে মরুতে ভুপেনের গান 'আমি যাযাবর' গাওয়া।

ভালোবাসা হল চাকুরি খুঁজতে পত্রিকা ঘাটা বিডিজবসের বারোটা বাজিয়ে ছাড়া।
একবার ফের পরীক্ষা দেওয়া, সুট-টাই পরে কত শতবার ভাইভাতে ফেস করা।
ভালোবাসা হল নতুন এক বস, নতুন অনেক কলিগের সাথে মেশা।
প্রেজেন্টেশান, প্রোমোশান, আরো কত কী নতুন আধুনিক পরিভাষা!

ভালোবাসা হল শেষ পর্যন্ত কারো সন্ধান পাওয়া,
যার চোখনীলে দেখে পার করা যায় জগতের মায়া।
ভালোবাসা হল একটি ছোট্ট পরিবার গড়ে তোলা,
একসাথে সুখে দুখে জীবনের তরীটি ভাসিয়ে চলা।

ভালোবাসা হল দাদুর ভাংগা গালে তার ভরা জীবনের গান শোনা।
এই গান শুনে উৎসুক চোখে নাতি নাতনির অতীতের ছবি আঁকা।
ভালোবাসা সে তো এক এক করে আপন মানুষ অসীমে হারিয়ে ফেলা।
সেই শোকে কাঁদা; শোক ভুলে ফের নতুন আশায় বুক বেঁধে ছুটে চলা।

ভালোবাসা কি হে শুধু দুজনের সফল প্রেমের গাঁথা?
না না, তা তো নয়। ভালোবাসা সে তো জীবনের প্রতি পাতা।
তাই আমি ভাবি, এই যে সকলে বানিয়েছে 'এক' দিন!
এই 'ভালোবাসা দিবস' কি ভালোবাসাকে করেনি হীন?

না, ঠিক হয়ত হীন সে করেনি। এরও কিছু আছে ভাল ও মন্দ দিক।
মন্দ না বলে ভালটাই বলি, ভাববার মেলা কিছুই আছে তো ঠিক।
আটপৌরে এ জীবনে আমরা ভুলে বসি ভালোবাসা।
তারে আমাদের সম্মুখে ফের এ দিবসের নিয়ে আসা!

কিন্তু দেখ হে আমরা কি করি, ভুলে যাই মহা-ভালোবাসার সে রূপ!
তা ভুলে সকলে সঙ্কীর্ণ চোখে দেখি, ভাবি শুধু কপোত-কপোতী-সুখ।
ভালোবাসা পাবে তার সে আসল রূপের দেখা সে দিন
যেদিন সকলে বুঝতে পারবে জীবনের প্রতি পলের অসীম ঋণ।

১৪.০২.২০১৪
ভালোবাসা দিবস ২০১৪
ফোর্নেবু, নরওয়ে

Friday, January 31, 2014

নোর্গের শীতে


নোর্গের শীতে

- জাহিদ আকোন

উত্তরীয় মেরুর আঁধার আমার ঘরের পাশে,
শীতের দারুন কনকনানি হাড় ফুটিয়ে আসে।
ঘণ্টা মিনিট না পেরোতেই দিন ফুরিয়ে যায়,
আলোর রেখা এক নিমিষে দক্ষিণে হারায়।

সুজ্জি মামা দেখা না দেয়

ক' সপ্তাহই গেল রে হায়,
          কে ভাঙ্গাবে রাগ!
দিগন্তের ঐ খুপড়ি থেকে

একটুখানি মুখ বাড়িয়ে
          উঁকি দিতেও লাজ।

কী করে তার লজ্জা ভাঙাই, বলতে কি কেউ পারো?
তার বিরহে নোর্গে মামির দুচোখ ভরো ভরো!
সকাল সন্ধ্যা কেঁদে ভাসায় ফিউর-লেক আর নদী
রাত জেগেও ঝরায় চোখের জল সে নিরবধি।

মেরুর দেশে সে জল না পায় মাটির দেখা, হায়!
তুষার হয়ে আকাশ থেকে ঝরে ধরার গায়।
স্তরে স্তরে জমে তুষার বাড়ির ছাদে লনে,
বাচ্চারা তায় বল বানিয়ে ঢিল খেলে সব জনে।

আমি পথিক বিকেলবেলায়

বেরোই দুচোখ যেদিকে যায়,
          হিমকণা গায় মাখি।
তুষারশুভ্র রাস্তা ধরে

স্কি পায়ে অন্ধকারে
          আছাড় খেয়ে শিখি।

দেশ থেকে আজ বহুৎ দূরে সুমেরুর এই বুকে
দিন গেল, মাস-বছর গেল, আছি তো বেশ সুখে!
প্রভু, তোমার প্রশংসা তাই করি সকাল সাঁঝ!
এমনি করে ভাসিয়ে রেখো দয়ায় বারো মাস।

ফোর্নেবু, নরওয়ে
৩১.১.২০১৪