Tuesday, June 10, 2014

মুসলিম নেই, ইসলামী দেশ: ইসলামিত্ব সূচক

খবর: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ মুসলিম গবেষকের উদ্ভাবিত ইসলামিত্ব সূচক (Islamicity Index) অনুযায়ী কুরআনের মূল্যবোধের প্রতি অনুগত দেশসমূহের র্যাংকিং ২০১০এ প্রথম ১০ এ উঠে এসেছে পশ্চিমা দেশগুলো - আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, সুইডেন,যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর,ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, বেলজিয়াম।

প্রথম ২৫ এর মধ্যে কোনো মুসলিম দেশ নেই! মালয়েশিয়া (৩৩) আর কুয়েত (৪২) শুধু আছে প্রথম ৫০ এ। সৌদি আরব ৯১তম আর কাতার ১১১তম. ভারত ৯৭, শ্রীলংকা ১০৭, বাংলাদেশ ১৪১, পাকিস্তান ১৪৫। এবছর নাগাদ নতুন সূচক আসবে।

এই সূচক নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তারা মূলত দেখেছেন কিভাবে দেশগুলো তাদের সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে, শাসনব্যবস্থায়, মানবিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামী নীতিকে বাস্তবে প্রয়োগ করেছে। তারা বলেন, আমাদের বলতেই হবে যে অনেক দেশ যারা নিজেদেরকে ইসলামের অনুসারী বলেন তারা আসলে ন্যায়বিচারহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত, অনুন্নত এবং মূলত সার্বিক বিচারে অনৈসলামিক।
___________________________
মনে পড়ে যায়, কেউ একজন বলেছিলেন, আমি পশ্চিমে গিয়েছি, সেখানে ইসলাম দেখেছি কিন্তু মুসলিম দেখিনি; যখন পূর্বে ফিরে এলাম, মুসলিম দেখলাম, কিন্তু ইসলাম দেখলাম না।
আরো মনে পড়ে, ব্রিটিশ গায়ক ক্যাট স্টিভেন্স ইসলাম গ্রহণ করার পরে এক সময় বলেছিলেন, আমি কুরআন পড়ে ইসলামে এসেছি; যদি মুসলিমদের দেশে এসে শুধু তাদেরকে দেখে ইসলাম গ্রহণ করতে হত, তবে হয়ত আমার আর ইসলাম গ্রহণ করা হত না।


এতটাই নিচে আমরা মুসলিমরা আজ নেমে গেছি! নিজেদের দায়িত্ব আর আদর্শ ভুলে ইসলামকে শুধু বাপদাদাদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত একটি সম্পত্তি (ধর্ম) মনে করে নিজেদের ও সমাজের জীবন থেকে একে শুধু যে নির্বাসনে দিয়েছি তা নয়, সমাজে যাতে ইসলামী জীবন পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে সেজন্যে প্রচলিত জনপ্রিয় সব গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে নিজেদেরকে ভুলিয়ে রেখেছি, ঠিক যেমনটি করেছিল বনী ইসরাইলরা (অতীতের মুসলিম)। আর তাই আল্লাহর প্রতিশ্রুতিমত আমাদের উপর আজ নেমে এসেছে এই লাঞ্ছনা, অধঃপতন, দুরবস্থা ও অনটনের শাস্তি। আর তাঁর প্রতিশ্রুতি মত আমাদের জায়গায় অন্য কোন জাতিকে তিনি পৃথিবীর পরিচালনায় দাঁড় হয়ত করাচ্ছেন বা করিয়ে ফেলেছেন এবং বিভিন্নভাবে তাদেরকে দিয়ে আমাদের শাস্তি দিচ্ছেন।

আল্লাহ বলেন:
"অবশেষে (বনী ইসরাইলদের) অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌছলো যার ফলে লাঞ্ছনা, অধপতন, দুরবস্থা ও অনটন তাদের ওপর চেপে বসলো এবং আল্লাহর গযব তাদেরকে ঘিরে ফেললো৷ এ ছিল তাদের ওপর আল্লাহর আয়াতের সাথে কুফরী করার এবং পয়গম্বরদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার ফল৷ এটি ছিল তাদের নাফরমানির এবং শরীয়াতের সীমালংঘনের ফল৷" - সূরা বাকারাহ ৬১

"তোমরা যদি না (আল্লাহর পথে) বের হও তাহলে আল্লাহ তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের জায়গায় আর একটি দল/জাতিকে ওঠাবেন, আর তোমরা আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না৷ তিনি সব জিনিসের ওপর শক্তিশালী৷" - সুরা তাওবাহ ৩৯

"তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে আল্লাহ তোমাদের স্থানে অন্য কোন জাতিকে নিয়ে আসবেন৷ তারা তোমাদের মত হবে না৷" - সুরা মুহাম্মাদ ৩৮



সূত্র:
1. http://www.irishtimes.com/news/social-affairs/religion-and-beliefs/ireland-the-most-truly-muslim-country-in-the-world-1.1826354
2. http://relooney.fatcow.com/SI_Expeditionary/0-Important_87.pdf

Saturday, February 15, 2014

ভালোবাসা?

ভালোবাসা?

-জাহিদ আকোন


ভালোবাসা সে তো মায়ের চোক্ষে ছোটটির জন্যে মায়া।
জন্মের পরে প্রসূতির ব্যথা পুরোপুরি ভুলে যাওয়া।
ভালোবাসা মানে ছোট্ট পায়ে সোনামণিটির গুটি গুটি হাঁটা ধরা।
দুই পা এগিয়ে এক পা পিছিয়ে সযতন হাতে - ধড়াস! করে পড়া।

ভালোবাসা মানে একটা মিষ্টি (না জেনে ভিতরে ট্যাবলেটসহ) গেলা!
মুখে পুরে দিয়ে চিবোতে গিয়ে মা-বাবার ধোঁকা ধরে ফেলাটার জ্বালা।
ভালোবাসা সে তো রাত-বিরেতে পিচ্চির হঠাৎ ভ্যাঁ করে কেঁদে ওঠা।
কান্না ভাঙাতে সেই ভররাতে বাবার সাথে একটুকু ঘুরে আসা।

ভালোবাসা মানে বিস্কুট নিয়ে দু-ভাইবোনের মারামারি শুরু করা।
একটু পরে ঝগড়া থামিয়ে দুইজনে মিলে ভাগাভাগি করে খাওয়া।
ভালোবাসা সে তো ক্লাসের বেঞ্চে সিট দখলের প্রতিযোগিতায় নামা।
সকালে নাস্তা শেষ না করেই সবার আগে ইসকুলে ছুটে যাওয়া।

ভালোবাসা সে তো মাঝে মাঝে ক্লাসে স্যারের বকুনি খাওয়া।
একশতে ফের নব্বই পেয়ে কলার উঁচু করে 'সেইরকম' ভাব নেওয়া!
ভালোবাসা মানে বন্ধুরা মিলে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া।
রমযান মাসে তারাবি নামাজে কোনমতে আট রাকাহ্ শেষে দৌড় দেওয়া।

ভালোবাসা সে তো বিটিভিতে সাড়ে আটটায় রাতে প্যাকেজ নাটক দেখা।
দশটার নিউজ পার করে জাগা; আর তার ফলে ওইঘর থেকে বাবার বকুনি খাওয়া।
ভালোবাসা কি সে শেষ বিকেলে বন্ধুরা মিলে প্রতিদিন সেই আড্ডা দেয়াটা নয়?
স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলা, ক্রিকেটের ম্যাচ- আরও কত খেলা, কত জয় পরাজয়!

ভালোবাসা সে তো মফস্বলের স্কুল শেষ করে সব ছেড়ে ছুড়ে শহরে কলেজে পড়া।
সীমার বাঁধন কেটে ফেলে দিয়ে অসীমের পানে অবিরাম ছোটা আচমকা শুরু করা।
ভালোবাসা মানে মেসে-ক্যান্টিনে বাধ্য হয়েই ছাই-পাশ খাওয়া-দাওয়া।
দু'মাস না যেতে মায়ের হাতের রান্নার ঘ্রাণ পেতে বাড়ি ছুটে যাওয়া।

ভালোবাসা মানে অনেক কষ্টে বুয়েটে অথবা মেডিকেলে চান্স পাওয়া।
অথবা কোথাও চান্স না পেয়ে রবার্ট ব্রুসের মাকড়সার মত অধ্যাবসায়ী হওয়া।
ভালোবাসা কি নয় ভার্সিটি-হলে সিট না পেয়ে গণরুমে বসবাস?
ভালোবাসা হল- রেজাল্ট খারাপ! উঠে পড়ে লাগ্, ফলাফল: হা-হুতাশ!!

ভালোবাসা হল একদিন এক মনের মতন মানুষের দেখা পাওয়া।
তার মন পেতে সব ভুলে গিয়ে পাগলের মত অদ্ভুত কিছু করা।
ভালোবাসা সে কি সেই তারই থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে যাওয়াটাও নয়?
দুঃখের চোট, জীবনে আঁধার; তবু চেয়ে দেখো, সময়ে সে করে ক্ষয়।

ভালোবাসা সে তো উচ্চশিক্ষা; এইবার দেখো দেশটাই ছেড়ে যাওয়া।
বিদেশের মাটি, নতুন পৃথিবী; প্রতি সপ্তাহে স্কাইপিতে উঁকি দেওয়া।
ভালোবাসা সেতো কত শহরের কত শত রঙ, কত রকমের মানুষের সাথে চলা।
দেশে দেশে ঘুরে, প্লেনে ট্রেনে চলে, তুষারে মরুতে ভুপেনের গান 'আমি যাযাবর' গাওয়া।

ভালোবাসা হল চাকুরি খুঁজতে পত্রিকা ঘাটা বিডিজবসের বারোটা বাজিয়ে ছাড়া।
একবার ফের পরীক্ষা দেওয়া, সুট-টাই পরে কত শতবার ভাইভাতে ফেস করা।
ভালোবাসা হল নতুন এক বস, নতুন অনেক কলিগের সাথে মেশা।
প্রেজেন্টেশান, প্রোমোশান, আরো কত কী নতুন আধুনিক পরিভাষা!

ভালোবাসা হল শেষ পর্যন্ত কারো সন্ধান পাওয়া,
যার চোখনীলে দেখে পার করা যায় জগতের মায়া।
ভালোবাসা হল একটি ছোট্ট পরিবার গড়ে তোলা,
একসাথে সুখে দুখে জীবনের তরীটি ভাসিয়ে চলা।

ভালোবাসা হল দাদুর ভাংগা গালে তার ভরা জীবনের গান শোনা।
এই গান শুনে উৎসুক চোখে নাতি নাতনির অতীতের ছবি আঁকা।
ভালোবাসা সে তো এক এক করে আপন মানুষ অসীমে হারিয়ে ফেলা।
সেই শোকে কাঁদা; শোক ভুলে ফের নতুন আশায় বুক বেঁধে ছুটে চলা।

ভালোবাসা কি হে শুধু দুজনের সফল প্রেমের গাঁথা?
না না, তা তো নয়। ভালোবাসা সে তো জীবনের প্রতি পাতা।
তাই আমি ভাবি, এই যে সকলে বানিয়েছে 'এক' দিন!
এই 'ভালোবাসা দিবস' কি ভালোবাসাকে করেনি হীন?

না, ঠিক হয়ত হীন সে করেনি। এরও কিছু আছে ভাল ও মন্দ দিক।
মন্দ না বলে ভালটাই বলি, ভাববার মেলা কিছুই আছে তো ঠিক।
আটপৌরে এ জীবনে আমরা ভুলে বসি ভালোবাসা।
তারে আমাদের সম্মুখে ফের এ দিবসের নিয়ে আসা!

কিন্তু দেখ হে আমরা কি করি, ভুলে যাই মহা-ভালোবাসার সে রূপ!
তা ভুলে সকলে সঙ্কীর্ণ চোখে দেখি, ভাবি শুধু কপোত-কপোতী-সুখ।
ভালোবাসা পাবে তার সে আসল রূপের দেখা সে দিন
যেদিন সকলে বুঝতে পারবে জীবনের প্রতি পলের অসীম ঋণ।

১৪.০২.২০১৪
ভালোবাসা দিবস ২০১৪
ফোর্নেবু, নরওয়ে

Friday, January 31, 2014

নোর্গের শীতে


নোর্গের শীতে

- জাহিদ আকোন

উত্তরীয় মেরুর আঁধার আমার ঘরের পাশে,
শীতের দারুন কনকনানি হাড় ফুটিয়ে আসে।
ঘণ্টা মিনিট না পেরোতেই দিন ফুরিয়ে যায়,
আলোর রেখা এক নিমিষে দক্ষিণে হারায়।

সুজ্জি মামা দেখা না দেয়

ক' সপ্তাহই গেল রে হায়,
          কে ভাঙ্গাবে রাগ!
দিগন্তের ঐ খুপড়ি থেকে

একটুখানি মুখ বাড়িয়ে
          উঁকি দিতেও লাজ।

কী করে তার লজ্জা ভাঙাই, বলতে কি কেউ পারো?
তার বিরহে নোর্গে মামির দুচোখ ভরো ভরো!
সকাল সন্ধ্যা কেঁদে ভাসায় ফিউর-লেক আর নদী
রাত জেগেও ঝরায় চোখের জল সে নিরবধি।

মেরুর দেশে সে জল না পায় মাটির দেখা, হায়!
তুষার হয়ে আকাশ থেকে ঝরে ধরার গায়।
স্তরে স্তরে জমে তুষার বাড়ির ছাদে লনে,
বাচ্চারা তায় বল বানিয়ে ঢিল খেলে সব জনে।

আমি পথিক বিকেলবেলায়

বেরোই দুচোখ যেদিকে যায়,
          হিমকণা গায় মাখি।
তুষারশুভ্র রাস্তা ধরে

স্কি পায়ে অন্ধকারে
          আছাড় খেয়ে শিখি।

দেশ থেকে আজ বহুৎ দূরে সুমেরুর এই বুকে
দিন গেল, মাস-বছর গেল, আছি তো বেশ সুখে!
প্রভু, তোমার প্রশংসা তাই করি সকাল সাঁঝ!
এমনি করে ভাসিয়ে রেখো দয়ায় বারো মাস।

ফোর্নেবু, নরওয়ে
৩১.১.২০১৪

Saturday, September 14, 2013

Tumi Rahman Tumi Meherban: A popular Bengali song translated into English

This is a popular Bengali song praising the One True God. It is called 'Tumi Rahman Tumi Meherban'. I don't know who wrote this great song, but I tried to translate it into English getting the best out of it. God is the Greatest!
If you want to hear the song, it's available on YouTube sung by one of my favourite singers Saifullah Mansur:


তুমি রহমান তুমি মেহেরবান।
অন্ধ গাহে না শুধু তোমারই গুণগান।
বুঝেও বোঝে না তব শান।

জনম জনম যদি গাহি,

তোমারই মহিমা গাওয়া শেষ হবে নাহি।
ভরেও ভরে না যেন সাহারা এ প্রাণ।

তোমারই করুণা ঘেরা সারা দুনিয়া।

সে কথা ভাবে না শুধু বধির হিয়া।

কখনো তোমারে যদি ভুলি,

হেদায়াতের আলো জেলে নিও কাছে তুলি।
ঠাঁই দিও প্রিয়তম ওগো দয়াবান।


English Translation by me:

O You! You are the Most Merciful, You are the Most Benevolent.

Only this culprit blind soul does not care to offer You your worthy praises.
He is oblivious to Your Greatness though he does understand it.

If I could continue to praise You throughout this worldy life and the Hereafter,

Indeed I cannot do enough for your worthy praises.
And still this thirsty soul would not get relieved of its Sahara-like thirst.

Indeed this world is filled with your mercy to the brim.

But this culprit deaf soul does not care to even ponder over that fact.

If I ever forget You slipping off your constant remembrance and praise for a moment,

Please draw me near to You again enkindling the light of Guidance.
Please bestow on me a shelter in You. O You! The Most Merciful!

Friday, April 16, 2010

রাখি

রাখি
জাহিদ আকোন

ওই বুড়ি, তোর একুশ বছর হলো!
এইতো সেদিন, কই বেশিদিন?
আমার কোলের গদির ’পরে,
রয়ে সয়ে বসতি ওরে;
আরছুটতাম আমি দিন কি দুপুর
বেড়িয়ে হেথায় কিংবা সুদূর।
নইলে কি তোর কান্নাকাটি থামে?
আমার বারো বাজে ঘেমে ঘেমে।
আজভাবতে পারিস একুশ বছর গেলো?
আম্মা আছেন অষ্টপ্রহর কাজে,
গেরস্থালির সবকিছু তাঁর কাঁধে।
আরসকাল বেলা আব্বা যে বের হন –
মাদ্রাসাতেই দিন কাটিয়ে দেন।
ক্লান্তদেহে বাসায় ফিরে
টুকিটাকি কম্ম সেরে
একটু জিরে বাজার তরে সাইকেল চড়ান।
আব্বা আবার হোমি’ওষুধের ডাক্তারি করান।
বুঝতে তো পাই, ব্যস্ত সবাই কাজে
সারাটা দিন সকাল থেকে সাঁঝে।
আরতুই -?
ওরেহাসিস নে রে, শুনিস –
তুই বুড়িটা কাজ তিনটা করতে খালি পারিস –
কেউ দোলালে দোলনাতে ঘুম পাড়তে পারিস;
কোলান্তরে ঘুরে ঘুরে হাসতে পারিস;
আরএকটুকু ক্ষণ পরে পরে
কটকটিয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে
ছোট্ট তোর ওই ধড় কাঁপিয়ে
কাঁদতে শুধুই পারিস!
হম্‌,কান্না তো নয়; এ তোর ভাষা, জানি –
‘কোলে তোলো, বাইরে যাও এক্ষুনি।’
আরআমি –?
ইশকুলে সব পাঠ্য সারি
বাসায় আমি যেই না ফিরি
আম্মা হাঁকেন – “নিয়ে এরে বাইরে ঘুরে আয়।”
কী আর করি, আজ্ঞা মানি; বিকেল পড়ে যায়।
পাড়ার সকল ছেলেমে’রা খেলে টুকু-দাড়িয়াবাঁধা;
ক্রিকেট খেলাও চলে।
খেলতে খেলতে বিকেল গড়ায় সন্ধ্যা ঘনায়
সবাই বাড়ি ফেরে।
আমার কি হয়, বলবো কী হায়!
হয়না খেলা, তুই যে কোলায়!
দর্শক আমি সবার খেলা হেরি।
সুযোগ হলে তোরে কোলে
ক্রিকেটের আম্‌পায়ারগিরি করি!
দেড়খানি যুগ পর –
এল আবার আজকেরে তোর জন্মদিনের ঘট।
মোরস্মৃতি-আতুর মনের মাদুর বায়োস্কোপের পট।
সেই পটে চে’ দেখি –
‘কবে যেন তুই বেধেঁছিস এই দু’হাতে রাখি।’
হায়!বুঝতে পারিস নাকি?
একুশ বছর পার করেছিস! একি!
আজ বিধাতার তরে আবদার কিছুই না চাই আর,
তোরদুই জীবনে ঋদ্ধির হোক অমিত প্রসার।
আরো আরো একুশ বছর তুই বেঁচে র’ সুখে,
দুঃখ যেন না ছোঁয় তোকে, সুদিনকে না রোখে।
আরএকটি কথা বলেই ফেলি রাখবো নারে ঢাকি’
হাত থেকে না ছিঁড়িস রে তুই অদৃশ্য সেই রাখি।

১৫ এপ্রিল, ২০১০
সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা
(আমার ছোট বোনের ২১তম জন্মদিনে)