Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Thursday, January 1, 2015

Thankingly I ask


Really really thankful to you, O my dear Lord!
For all the favours you've kept me drowned in
Throughout the year that has just passed
Lovingly forgiving, O Subtle, our God!
Everytime obliviously I kept crossing the line
You were the one to turn me back on track.
Lost support, lost hope but you were never lost
To hear my call, to gift me things I never thought.
Flood our coming days with your love and mercy.
Keep the devils away from us, O Lord Almighty!
Pour upon us from the grail of all the patience.
Fill our hearts with humble benevolence.
Count us with those that have been your nearest.
Help us show the light to the lost and the diseased.

Jahid Akon
New Year's Day 2015
Oslo, Norway

Saturday, November 29, 2014

মধুচন্দ্রিমা

মধুচন্দ্রিমা
-জাহিদ আকোন

আজআকাশ ভরেছে পূর্ণিমায়।
পৃথিবী সেজেছে চন্দ্রিমায়।
গোলাপ-চাঁপারা হাতছানি দিয়ে
ডাকছে কী মৃদু ভঙ্গিমায়!
আরমনটা আমার মেতেছে রে আজ
সে চাঁদমুখের মধুরিমায়।
এইস্রোতস্বিনী নদীতে আজ কী ঢেউ জাগে!
ওইকাশফুলেদের পাড়ায় রে আজ কী সুর লাগে!
মৃদুমন্দ বাতাসরা বয়,
কানে কানে কী কথা কয়!
এই মধুক্ষণ তোমার কাছে আমার কাছে
ক্ষণে ক্ষণে কী আজ মাগে!
আজভুলব বিরহব্যথা।
পূরব মিলনগাথা।
আমিআকাশে বাতাসে রাষ্ট্রিব আজ
'ভালোবাসি ভালোবাসি' - এ কথা।


রাজশাহী
৭ নভে. ২০১৪

Sunday, November 23, 2014

অপেক্ষা

অপেক্ষা
-জাহিদ আকোন

অপেক্ষার কী তবে শেষ হল!
জীবনের এতটা পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে
অপেক্ষার যন্ত্রণা কী ছুটি নিল!

ছোটবেলায় যখন খালা-মামাদের বিয়ে দেখেছি,
ভেবেছি- মানুষ বিয়ে কেন করে!
মাকে জিজ্ঞেসও করেছি -
'কেন করে মা, মানুষ বিয়ে?'
জবাব এসেছে - 'এটাই নিয়ম, বাবা।
সবাইকে একদিন বিয়ে করতে হয়।'
উত্তরে ঠিক খুশি হতে পারিনি সেদিন,
কিন্তু অবাক হয়ে ভেবেছি -
'আমাকেও বিয়ে করতে হবে কোনোদিন!'
অবেচতন অপেক্ষার সেই হয়ত শুরু।

আজ যৌবনের ভরা জোয়ারে
সেই অপেক্ষা কী তবে ছাড়া পেল!

স্কুলের হাসি খেলার দিনগুলোতে
দেখেছি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া
পাড়াত-থানাত ভাইবোনেদের প্রেম।
কত যে টিপ্পনি কেটেছি তাদের বাঁধভাঙা প্রেম দেখে -
বন্ধু-বান্ধবে মিলে গুজব করেছি
কার সাথে কার প্রেম হল কার ভাঙল সেই সব নিয়ে।
কিছু তার গড়িয়েছে পরিণয়ে, কিছু ছাড়াছাড়ি।
তাদের হাসিতে হেসেছি, দুঃখে কেঁদেছি
আর মনে উঁকি দিয়েছে একটাই ভাবনা -
এদের মত আমারও কী একদিন প্রেম হবে!
সেই প্রেম থেকে বিয়ে!
অপেক্ষার সচেতনতার সেখানেই শুরু কিনা জানিনা।

দিন যায় মাস যায়, চলে আসে আগুনের দিন।
উচ্চশিক্ষা কেড়ে নেয় ছোটবেলার সেইসব
আনন্দমাখা বাবা-মার আদরভরা ছোট ছোট দিন।
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠিন দিনগুলোতেও
দেখেছি কত শত প্রেম আর ভালবাসা।
ক্লাসের ছেলেতে-মেয়েতে প্রেম মানেই ছিল
দুজনের চরম ভাল অ্যাকাডেমিক ফলাফল!
বন্ধুদের ভালবাসার কত শত ঘটনা
সাক্ষী যে করে নিল এই আমাকে।
কিন্তু আমার অপেক্ষা বুঝি এইবারে কথা কয়ে ওঠে,
মনে হতে থাকে -  কবে আসবে সেদিন!
যেদিন আমি দেখা পাব তার
যার প্রেমে মিটে যাবে একাকী জীবন!

ভার্সিটি জীবনের হুহু করা বুক ফাটা
অপেক্ষার মরা ডালে তবে কী আজ ফুল ফুটল!

চাকুরি জীবনের শুরু হল।
সবাই একে একে ঢুকে গেল যার যার চাকুরিতে।
আর চারিদিকে শুরু হয়ে গেল বিয়ের মহাধুমধাম।
প্রত্যেক মাসে কতটা যে বিয়ের দাওয়াত পেতাম!
সবগুলোতেই গিয়েছি, মজা করেছি কত!
বিয়ের স্টেজে কত কত ছবি তুলেছি -
ফেসবুকে কত শত অ্যালবামের কুশীলব হয়েছি!
বাইরে আমার দেখেছে তো সবে আনন্দের অমলিন ধারা।
ভিতরে ঝরেছে অপেক্ষার খুন - দেখেনি তা তারা!
আজ যেন আমি তাই আনন্দে আত্মহারা -
অপেক্ষার খুনরাঙা পথ আজ ফুলে ফুলে ভরা।

তবে এটা সত্যি -
আজকালকার বাঁধভাঙা প্রেম আমি চাইনি।
আমি চেয়েছি একজন প্রেমময় জীবনসঙ্গী।
বছরের পর বছর টানা প্রেম করে যাওয়া
আমার কাম্য ছিল না -
আমি চেয়েছি এমন একজন মায়াবতী
যাকে আমি আপনার করে পাব
পূর্ণ অধিকারে -
সীমিত অধিকার আমি চাইনি কখনো।
আমি এমন একজনকে চেয়েছি
যাকে দেখলে হৃদয়ের সব প্রেম ফুল হয়ে ফোটে।
আমি এমন একজনকে চেয়েছি
যাকে দেখলে বিধাতার কথা মনে পড়ে।

তাই হয়ত আমার অপেক্ষার পালে
হাওয়া লাগেনি এতদিন
তোমাকে পাব বলে আপন করে
পূর্ণ অধিকারে।

অবশেষে -
বিধাতা আমার দিকে চোখ তুলে তাকাল।
আর আমার অপেক্ষার যুগ এভাবেই শেষ হল।

রাজশাহী
৫ নভে. ২০১৪

Friday, February 14, 2014

ভালোবাসা?

ভালোবাসা?

-জাহিদ আকোন


ভালোবাসা সে তো মায়ের চোক্ষে ছোটটির জন্যে মায়া।
জন্মের পরে প্রসূতির ব্যথা পুরোপুরি ভুলে যাওয়া।
ভালোবাসা মানে ছোট্ট পায়ে সোনামণিটির গুটি গুটি হাঁটা ধরা।
দুই পা এগিয়ে এক পা পিছিয়ে সযতন হাতে - ধড়াস! করে পড়া।

ভালোবাসা মানে একটা মিষ্টি (না জেনে ভিতরে ট্যাবলেটসহ) গেলা!
মুখে পুরে দিয়ে চিবোতে গিয়ে মা-বাবার ধোঁকা ধরে ফেলাটার জ্বালা।
ভালোবাসা সে তো রাত-বিরেতে পিচ্চির হঠাৎ ভ্যাঁ করে কেঁদে ওঠা।
কান্না ভাঙাতে সেই ভররাতে বাবার সাথে একটুকু ঘুরে আসা।

ভালোবাসা মানে বিস্কুট নিয়ে দু-ভাইবোনের মারামারি শুরু করা।
একটু পরে ঝগড়া থামিয়ে দুইজনে মিলে ভাগাভাগি করে খাওয়া।
ভালোবাসা সে তো ক্লাসের বেঞ্চে সিট দখলের প্রতিযোগিতায় নামা।
সকালে নাস্তা শেষ না করেই সবার আগে ইসকুলে ছুটে যাওয়া।

ভালোবাসা সে তো মাঝে মাঝে ক্লাসে স্যারের বকুনি খাওয়া।
একশতে ফের নব্বই পেয়ে কলার উঁচু করে 'সেইরকম' ভাব নেওয়া!
ভালোবাসা মানে বন্ধুরা মিলে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া।
রমযান মাসে তারাবি নামাজে কোনমতে আট রাকাহ্ শেষে দৌড় দেওয়া।

ভালোবাসা সে তো বিটিভিতে সাড়ে আটটায় রাতে প্যাকেজ নাটক দেখা।
দশটার নিউজ পার করে জাগা; আর তার ফলে ওইঘর থেকে বাবার বকুনি খাওয়া।
ভালোবাসা কি সে শেষ বিকেলে বন্ধুরা মিলে প্রতিদিন সেই আড্ডা দেয়াটা নয়?
স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলা, ক্রিকেটের ম্যাচ- আরও কত খেলা, কত জয় পরাজয়!

ভালোবাসা সে তো মফস্বলের স্কুল শেষ করে সব ছেড়ে ছুড়ে শহরে কলেজে পড়া।
সীমার বাঁধন কেটে ফেলে দিয়ে অসীমের পানে অবিরাম ছোটা আচমকা শুরু করা।
ভালোবাসা মানে মেসে-ক্যান্টিনে বাধ্য হয়েই ছাই-পাশ খাওয়া-দাওয়া।
দু'মাস না যেতে মায়ের হাতের রান্নার ঘ্রাণ পেতে বাড়ি ছুটে যাওয়া।

ভালোবাসা মানে অনেক কষ্টে বুয়েটে অথবা মেডিকেলে চান্স পাওয়া।
অথবা কোথাও চান্স না পেয়ে রবার্ট ব্রুসের মাকড়সার মত অধ্যাবসায়ী হওয়া।
ভালোবাসা কি নয় ভার্সিটি-হলে সিট না পেয়ে গণরুমে বসবাস?
ভালোবাসা হল- রেজাল্ট খারাপ! উঠে পড়ে লাগ্, ফলাফল: হা-হুতাশ!!

ভালোবাসা হল একদিন এক মনের মতন মানুষের দেখা পাওয়া।
তার মন পেতে সব ভুলে গিয়ে পাগলের মত অদ্ভুত কিছু করা।
ভালোবাসা সে কি সেই তারই থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে যাওয়াটাও নয়?
দুঃখের চোট, জীবনে আঁধার; তবু চেয়ে দেখো, সময়ে সে করে ক্ষয়।

ভালোবাসা সে তো উচ্চশিক্ষা; এইবার দেখো দেশটাই ছেড়ে যাওয়া।
বিদেশের মাটি, নতুন পৃথিবী; প্রতি সপ্তাহে স্কাইপিতে উঁকি দেওয়া।
ভালোবাসা সেতো কত শহরের কত শত রঙ, কত রকমের মানুষের সাথে চলা।
দেশে দেশে ঘুরে, প্লেনে ট্রেনে চলে, তুষারে মরুতে ভুপেনের গান 'আমি যাযাবর' গাওয়া।

ভালোবাসা হল চাকুরি খুঁজতে পত্রিকা ঘাটা বিডিজবসের বারোটা বাজিয়ে ছাড়া।
একবার ফের পরীক্ষা দেওয়া, সুট-টাই পরে কত শতবার ভাইভাতে ফেস করা।
ভালোবাসা হল নতুন এক বস, নতুন অনেক কলিগের সাথে মেশা।
প্রেজেন্টেশান, প্রোমোশান, আরো কত কী নতুন আধুনিক পরিভাষা!

ভালোবাসা হল শেষ পর্যন্ত কারো সন্ধান পাওয়া,
যার চোখনীলে দেখে পার করা যায় জগতের মায়া।
ভালোবাসা হল একটি ছোট্ট পরিবার গড়ে তোলা,
একসাথে সুখে দুখে জীবনের তরীটি ভাসিয়ে চলা।

ভালোবাসা হল দাদুর ভাংগা গালে তার ভরা জীবনের গান শোনা।
এই গান শুনে উৎসুক চোখে নাতি নাতনির অতীতের ছবি আঁকা।
ভালোবাসা সে তো এক এক করে আপন মানুষ অসীমে হারিয়ে ফেলা।
সেই শোকে কাঁদা; শোক ভুলে ফের নতুন আশায় বুক বেঁধে ছুটে চলা।

ভালোবাসা কি হে শুধু দুজনের সফল প্রেমের গাঁথা?
না না, তা তো নয়। ভালোবাসা সে তো জীবনের প্রতি পাতা।
তাই আমি ভাবি, এই যে সকলে বানিয়েছে 'এক' দিন!
এই 'ভালোবাসা দিবস' কি ভালোবাসাকে করেনি হীন?

না, ঠিক হয়ত হীন সে করেনি। এরও কিছু আছে ভাল ও মন্দ দিক।
মন্দ না বলে ভালটাই বলি, ভাববার মেলা কিছুই আছে তো ঠিক।
আটপৌরে এ জীবনে আমরা ভুলে বসি ভালোবাসা।
তারে আমাদের সম্মুখে ফের এ দিবসের নিয়ে আসা!

কিন্তু দেখ হে আমরা কি করি, ভুলে যাই মহা-ভালোবাসার সে রূপ!
তা ভুলে সকলে সঙ্কীর্ণ চোখে দেখি, ভাবি শুধু কপোত-কপোতী-সুখ।
ভালোবাসা পাবে তার সে আসল রূপের দেখা সে দিন
যেদিন সকলে বুঝতে পারবে জীবনের প্রতি পলের অসীম ঋণ।

১৪.০২.২০১৪
ভালোবাসা দিবস ২০১৪
ফোর্নেবু, নরওয়ে

Friday, January 31, 2014

নোর্গের শীতে


নোর্গের শীতে

- জাহিদ আকোন

উত্তরীয় মেরুর আঁধার আমার ঘরের পাশে,
শীতের দারুন কনকনানি হাড় ফুটিয়ে আসে।
ঘণ্টা মিনিট না পেরোতেই দিন ফুরিয়ে যায়,
আলোর রেখা এক নিমিষে দক্ষিণে হারায়।

সুজ্জি মামা দেখা না দেয়

ক' সপ্তাহই গেল রে হায়,
          কে ভাঙ্গাবে রাগ!
দিগন্তের ঐ খুপড়ি থেকে

একটুখানি মুখ বাড়িয়ে
          উঁকি দিতেও লাজ।

কী করে তার লজ্জা ভাঙাই, বলতে কি কেউ পারো?
তার বিরহে নোর্গে মামির দুচোখ ভরো ভরো!
সকাল সন্ধ্যা কেঁদে ভাসায় ফিউর-লেক আর নদী
রাত জেগেও ঝরায় চোখের জল সে নিরবধি।

মেরুর দেশে সে জল না পায় মাটির দেখা, হায়!
তুষার হয়ে আকাশ থেকে ঝরে ধরার গায়।
স্তরে স্তরে জমে তুষার বাড়ির ছাদে লনে,
বাচ্চারা তায় বল বানিয়ে ঢিল খেলে সব জনে।

আমি পথিক বিকেলবেলায়

বেরোই দুচোখ যেদিকে যায়,
          হিমকণা গায় মাখি।
তুষারশুভ্র রাস্তা ধরে

স্কি পায়ে অন্ধকারে
          আছাড় খেয়ে শিখি।

দেশ থেকে আজ বহুৎ দূরে সুমেরুর এই বুকে
দিন গেল, মাস-বছর গেল, আছি তো বেশ সুখে!
প্রভু, তোমার প্রশংসা তাই করি সকাল সাঁঝ!
এমনি করে ভাসিয়ে রেখো দয়ায় বারো মাস।

ফোর্নেবু, নরওয়ে
৩১.১.২০১৪

Friday, April 16, 2010

রাখি

রাখি
জাহিদ আকোন

ওই বুড়ি, তোর একুশ বছর হলো!
এইতো সেদিন, কই বেশিদিন?
আমার কোলের গদির ’পরে,
রয়ে সয়ে বসতি ওরে;
আরছুটতাম আমি দিন কি দুপুর
বেড়িয়ে হেথায় কিংবা সুদূর।
নইলে কি তোর কান্নাকাটি থামে?
আমার বারো বাজে ঘেমে ঘেমে।
আজভাবতে পারিস একুশ বছর গেলো?
আম্মা আছেন অষ্টপ্রহর কাজে,
গেরস্থালির সবকিছু তাঁর কাঁধে।
আরসকাল বেলা আব্বা যে বের হন –
মাদ্রাসাতেই দিন কাটিয়ে দেন।
ক্লান্তদেহে বাসায় ফিরে
টুকিটাকি কম্ম সেরে
একটু জিরে বাজার তরে সাইকেল চড়ান।
আব্বা আবার হোমি’ওষুধের ডাক্তারি করান।
বুঝতে তো পাই, ব্যস্ত সবাই কাজে
সারাটা দিন সকাল থেকে সাঁঝে।
আরতুই -?
ওরেহাসিস নে রে, শুনিস –
তুই বুড়িটা কাজ তিনটা করতে খালি পারিস –
কেউ দোলালে দোলনাতে ঘুম পাড়তে পারিস;
কোলান্তরে ঘুরে ঘুরে হাসতে পারিস;
আরএকটুকু ক্ষণ পরে পরে
কটকটিয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে
ছোট্ট তোর ওই ধড় কাঁপিয়ে
কাঁদতে শুধুই পারিস!
হম্‌,কান্না তো নয়; এ তোর ভাষা, জানি –
‘কোলে তোলো, বাইরে যাও এক্ষুনি।’
আরআমি –?
ইশকুলে সব পাঠ্য সারি
বাসায় আমি যেই না ফিরি
আম্মা হাঁকেন – “নিয়ে এরে বাইরে ঘুরে আয়।”
কী আর করি, আজ্ঞা মানি; বিকেল পড়ে যায়।
পাড়ার সকল ছেলেমে’রা খেলে টুকু-দাড়িয়াবাঁধা;
ক্রিকেট খেলাও চলে।
খেলতে খেলতে বিকেল গড়ায় সন্ধ্যা ঘনায়
সবাই বাড়ি ফেরে।
আমার কি হয়, বলবো কী হায়!
হয়না খেলা, তুই যে কোলায়!
দর্শক আমি সবার খেলা হেরি।
সুযোগ হলে তোরে কোলে
ক্রিকেটের আম্‌পায়ারগিরি করি!
দেড়খানি যুগ পর –
এল আবার আজকেরে তোর জন্মদিনের ঘট।
মোরস্মৃতি-আতুর মনের মাদুর বায়োস্কোপের পট।
সেই পটে চে’ দেখি –
‘কবে যেন তুই বেধেঁছিস এই দু’হাতে রাখি।’
হায়!বুঝতে পারিস নাকি?
একুশ বছর পার করেছিস! একি!
আজ বিধাতার তরে আবদার কিছুই না চাই আর,
তোরদুই জীবনে ঋদ্ধির হোক অমিত প্রসার।
আরো আরো একুশ বছর তুই বেঁচে র’ সুখে,
দুঃখ যেন না ছোঁয় তোকে, সুদিনকে না রোখে।
আরএকটি কথা বলেই ফেলি রাখবো নারে ঢাকি’
হাত থেকে না ছিঁড়িস রে তুই অদৃশ্য সেই রাখি।

১৫ এপ্রিল, ২০১০
সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা
(আমার ছোট বোনের ২১তম জন্মদিনে)

Saturday, March 21, 2009

'উত্তাল মার্চ'


 

'উত্তাল মার্চ'


জাহিদ আকোন



দুই হাজার নয়ের মার্চ।
আমি ছাব্বিশ বছরের তরুণ
       বাংলাদেশের তরুণ।
       রাজধানীতে বাস।
সপ্তাহের পাঁচদিন কার্যদিবস
       দুইদিন ছুটি।
সকাল আটটায় অফিস।
'বিবিসি'-'এবিসি' শুনতে শুনতে চলি
       'বন্ধু পরিবহনে' চেপে
       কার্যালয় অভিমুখে
মুঠোফোনের এফ-এমের হেডফোন কানে।


'পিলখানা-কান্ড' কি হত্যাযজ্ঞ না বিদ্রোহ?
       এই প্রশ্ন পরিষ্কার হচ্ছে দিনে দিনে।
কী বিভৎস!
কী নির্দয়!
আর একসাথে এত সেনা অফিসার কি হত হয়েছেন
       কখনও পৃথিবীর কোথাও?
মনে হয় - 'না'!

আন্তর্জাতিক রূপ নিচ্ছে পশ্চিমের অর্থনৈতিক মন্দা।
বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন বিদেশে।
       বড় চিন্তার কথা!
সরকারের কাছে ব্যবসায়ী সমাজের আর্থিক সাহায্যের আবেদন
       যাতে এই খাত বিপদে না পড়ে।

'গঙ্গা ব্যারেজ' নাকি হবে পদ্মায়!
              ভালোই তো!
দক্ষিণ-পশ্চিমের মানুষের কৃষিকাজ সেচবিমুখ থাকবে না আর।
রাজশাহী নগরীর পদ্মার জলহীন বালুময়তা ঘুচবে এবার।

বড় এক রাজনৈতিক দলের বড় একজনকে বহিষ্কার!
              কারণ- 
তাঁর ছেলে দলের শৃঙ্খলা ভেঙেছেন!
হায়রে! ছেলের অপরাধে বাবা অপরাধী
                            এবং শাস্তিভোগী!

হঠাৎ আগুন!
কোথায় আগুন?
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় শপিং মলে আগুন!
জাঁকালো একুশ তলা ভবনের উপরের সাতটি তলা শেষ!
       'বসুন্ধরা গ্রুপের' প্রধান কার্যালয় শেষ!
এত আধুনিক ভবনের অগ্নিনির্বাপনের এই করুণ দশা কেন?
       সবার মনে আজ এ-ই প্রশ্ন।

আরও কত কত খবর!
       কত আলোচনা!
মুঠোফোনের এফ-এমের হেডফোন কানে।

হঠাৎ হুইসেল!
খেলার খবর!
কোটি টাকার 'পদবল' বা ফুটবল আসর ঢাকায়।
       খেলা বেশ জমে উঠেছে!
'লিভারপুল' ওদিকে হয়ে উঠেছে অদম্য।
কিন্তু প্রিমিয়ারশিপের টাইটেল?
       সে তো পাচ্ছে ম্যান ইউ।
আমার মত অনেকেরই তা-ই ধারণা।

সবশেষে 'উত্তাল মার্চ'।
দেশের স্বাধীনতার মাস
       মার্চ মাস।
এরই স্মরণে এবিসির প্রতিদিনকার আয়োজন।
       'উত্তাল মার্চ'।
আগ্রহভরে শুনি
       কারণ-
আমি স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখিনি
আমি ত্রিশ লাখ শহীদ দেখিনি
আমি পাক হানাদার-যজ্ঞ দেখিনি।
 
       প্রতিবেদক বলে যায়-
সাত মার্চ'৭১ এর ভাষণের কথা,
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের কথা।
"এবারের সংগ্রাম, আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।"
       -বলিষ্ঠ আহ্বান নেতার।

মেজর শফিউল্লাহ বলছেন
কিভাবে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনারা
পাকিস্তান আর্মি ভেঙে গড়ে তোলেন
       'বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী'।
কিভাবে পাক সেনারা এখানে শক্তি বাড়াতে থাকে
কিভাবে পাক সামরিক সরকার চোখে ধুলো দেয়
       সাত কোটি বাংলার মানুষের।

আজ একূশ মার্চ।
কালো রাতের বাকী আরো চারদিন।
আমি অপেক্ষায় আছি
কালো রাতের পরেরদিনের 'উত্তাল মার্চ' শুনব বলে।
       'একাত্তরের দিনগুলি' পড়ি
       আর অপেক্ষা করি
পঁচিশ মার্চ দুই হাজার নয়ের।
       কারণ-
আমি স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখিনি।
আমি ত্রিশ লাখ শহীদ দেখিনি
আমি পাক হানাদার-যজ্ঞ দেখিনি।
মুঠোফোনের এফ-এমের হেডফোন কানে।


সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা
২১ মার্চ ২০০৯

পুনশ্চঃ

এই কবিতাটি গদ্যছন্দে লেখা। এই ছন্দটি রবি ঠাকুরের অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কীর্তি। এতে কোন ছন্দ থাকেনা। আধুনিক যুগের কাব্যের ছন্দোমুক্তি ঘটানোর জন্য যে সব পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে গদ্যছন্দ সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। অমিত্রাক্ষর, গৈরিশ, মুক্তকের সম্মিলনে এর উৎপত্তি। এ ছন্দ যথাসম্ভব স্বাভাবিক ও কৃত্রিমতাশূন্য। শব্দের ও বাক্যাংশের সূক্ষ কারুকার্যের দিকে বেশি লক্ষ্য থাকে এই ছন্দে। আবেগময় গদ্য পরিত্যাজ্য।
রবি ঠাকুর বলেছেন,
"অশ্বারোহী সৈন্য ও সৈন্য, আবার পদাতিক সৈন্য ও সৈন্য- কোন্‌ খানে তাদের মূলগত মিল? -যেখানে লড়াই করে জেতাই তাদের উভয়েরই সাধনার লক্ষ্য।
কাব্যের লক্ষ্য হৃদয় জয় করা- পদ্যের ঘোড়া চডেই হোক, আর গদ্যের পা চালিয়েই হোক। সেই উদ্দেশ্য সিদ্ধির সক্ষমতার দ্বারাই তাকে বিচার করতে হবে। হার হলেই হার, তা সে ঘোড়ায় চডেই হোক, আর পায়ে হেঁটেই হোক।"

গদ্যছন্দ প্রবর্তনের প্রেক্ষিতে রবি ঠাকুর তার 'পুনশ্চ' কাব্যের ভূমিকায় বলেছেন-
"গীতাঞ্জলির গানগুলো ইংরেজি গদ্যে অনুবাদ করেছিলাম। এই অনুবাদ কাব্যশ্রেণীতে গণ্য হয়েছে। সেই অবধি আমার মনে এই প্রশ্ন ছিল যে, গদ্যছন্দের সুস্পষ্ট ঝঙ্কার না রেখে ইংরেজিরই মতো বাংলা গদ্যে কবিতার রস দেওয়া যায় কিনা। মনে আছে সত্যেন্দ্রনাথকে অনুরোধ করেছিলাম; তিনি স্বীকার করেছিলেন; কিন্তু চেষ্টা করেন নি। তখন আমি নিজেই পরীক্ষা করেছি, 'লিপিকা'র অল্প কয়েকটি লেখায় সেগুলো আছে। ছাপার সময় বাক্যগুলোকে পদ্যের মতো খন্ডিত করা হয়নি- বোধ করি ভীরুতাই তার কারণ।"

এই আমি প্রথম এই ছন্দে কবিতা লিখলাম।

Sunday, August 3, 2008

বন্ধুযাচ্ঞা

আজ আগস্ট মাসের প্রথম রোববার। আজ বন্ধু দিবস।

আজ আমি আমার সব বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানাব। আমি জানাব যে তাদের পেয়ে আমি কতটা আনন্দিত, কতটা সুখী, কতটা পূর্ণ! আমি আমার এই পঁচিশ বছরের জীবনে অনেক অনেক বন্ধু পেয়েছি... ছোটবেলায়, প্রাইমারি স্কুলে, হাই স্কুলে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, চাকুরি-ক্ষেত্রে... সব সব জায়গায় আমি অনেক অনেক বন্ধু পেয়েছি... কেউ খুব্বি ক্লোজ়, কেউ বা অল্প, কেউ বা বেশি, কারও সাথে মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়... কিন্তু সবাই আমার বন্ধু।আমি তাদের কী যে মিস করি বোলে বোঝানো অসম্ভব। আর আমি এও জানি বন্ধুদের সম্পর্কে আমার এ অনুভূতি শুধু আমার একার নয়, সবারি একই অবস্থা... এ অনুভুতি চিরন্তন, সার্বজনীন। আমার বন্ধুদের মধ্যে কেউ বা আজ দেশে, কেউ বা বিদেশে... অনেকের সাথে যোগাযোগ আছে ... কারো কারো সাথে নেই... আজ তাদের সবার স্মরণে এই কবিতা...

[কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা। চরণে পর্বের সঙ্খ্যা ৪। শেষ পর্ব অপূর্ণ। মাত্রাবিন্যাস ৬+৬+৬+২। এটাকে অনেকে ৬+৬+৮ মাত্রার ত্রিপদী ও বলে থাকেন।]




বন্ধুযাচ্ঞাজাহিদ মাসুদ


ঘুমের অঘোরে স্বপ্নের লোকে একরাতে আছি শুয়ে,
দেখছি আমার পায়ের তলার মাটিসব গেছে সরে।
চারিধারে মোর আঁধারের ঘোর শ্বাপদ ঘুরিছে দূরে,
পায়ের নিচেতে তাকালাম যবে ভয়ে প্রাণ গেল উড়ে।
সেথা গনগন জ্বলিছে আগুন, আমি খাড়া তারি 'পরে।
বাঁচানোর কেউ আছে কি, আমার পদতল গেছে সরে।
ভাবিলাম আমি এইবার বুঝি আর হবে না ক' বাঁচা;
জগতে আমার ঠাঁই নাই, আমি নিচে পড়ে যাব মারা।

এমনি করুণ দশাতে যখন, বাঁচার আশা সে দূর,
কারা কারা এসে হাতে হাত বেঁধে মাটিতে হয়ে উপুড়-
অনেক কষ্টে প্রাণ বাজি রেখে আমারে তুলিল টানি।
মৃতলোক হতে জীবনের লোকে কে ফিরালো নাহি জানি।
উপরে উঠিয়া জ্ঞান ফিরে পেয়ে দেখে হনু বাকহারা!
আমারে ঘেরিয়া আর কেউ নয়, বন্ধুরা মোর খাড়া।
হাত ধরে মোরে তুলে নিয়ে ঘাড়ে চলিল তাহারা সবে।
জগতের আলো ভাবিনি দেখিব ফের ফিরি এই ভবে।
ভাবতেছি আমি যেতে যেতে পথে- ধন্য ভাগ্য মম,
জীবনের পথে চলতে পেয়েছি বন্ধু অকৃত্রিম।
সুসময়ে কাছে অনেক ছিল সে বন্ধুর আনাগোনা।
অসময়ে তারা বাঁচিয়ে আমারে ঋণী করে দিল আমা!

স্বপ্নীল ঘুম ভাঙল হঠাৎ প্রভাত-পাখির রবে;
সম্বিৎ ফিরে চেয়ে দেখি ভোর, রাত কেটে গেছে সবে।
হাত-মুখ ধুয়ে প্রার্থনা সেরে ঈশ্বরপানে যাচি,
"এমন বন্ধু করো মোরে দান, 'বন্ধু দিবস' আজি।"


ধানমন্ডি
৩ আগস্ট ২০০৮
(বন্ধু দিবস)


শুভ হোক বন্ধু দিবস!
জাহিদ

Thursday, July 31, 2008

Un paseo en las nubes

গত ২০ তারিখ, শুক্রবারে একটা মুভি দেখলাম, যদিও অনেক আগের, ১৯৯৫ সালের; A walk in the clouds. অসাধারণ! কাহিনিটা আমার খুব ভাল্লেগেছে। নায়ক - কেয়ানু রীভ্স (Keanu Reeves), নায়িকা - আইতানা সাঞ্চেস-খিখোন (Aitana Sánchez-Gijón)। অসাধারণ এক কাহিনি। চিত্রপট আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নাপা ভ্যালির এক আঙ্গুরবাগান।

পল সাটন (কেয়ানু রীভ্স) আর ভিক্তোরিয়া আরাগোন (আইতানা সাঞ্চেস-খিখোন), আঙ্গুরবাগানে আগুনের বাতাস ছড়ানোর (যাতে আঙ্গুরগুলো তুষারে নষ্ট না হয়) মুহূর্তে...


এই মুভিটাতে একটা গান আছে-হিস্পানি ভাষায়, এটাকে বলে mariachi serenade। এটা গেয়ে ছেলেরা মেয়েদের প্রেমের প্রস্তাব করে। খুব্বি রোমানটিক একটা গান... আমি বাংলায় এটার অনুবাদ করলাম...অনুবাদ-কাব্যে আমার প্রথম প্রবেশ...[এটা আমি মাত্রাবৃত্ত মুক্তকে করেছি]
হিস্পানি:Amor...si me llamas amor
si me dejas amarte, mi bien...yo te voy a adorar.
Las estrellas nos veron asombradas
la noche y el dia seron en llamaradas

ইংরেজি অনুবাদ:
Love, if you call me love
If you let me love you, my well... i will adore you.
The stars will look at us, amazed.
The night and the day will be flared-up.

আমার বাংলায় অনুবাদঃ
অয়ি মোর প্রিয়তমা!
যদি মোরে ডাক কাছে
হে আমার অনুপমা!
যদিবা আমারে
দাও তোমা ভালবাসিবারে,
ভালবেসে দেব ভরে।
পাবে না পাবে না সেই প্রেমের উপমা।
হে আমার প্রিয়তমা!

আকাশের তারকারা তাকাবে চোখ উপাড়ি,
মনে হবে বুঝি ওরা হয়েছে অবাক ভারি।
দিবস-রজনী জেনো বিভাস হইবে হেন
ভালবাসা হেরি,
যদি তুমি কাছে ডাক,
ওহে অয়ি সুন্দরী!

গুলশান,ঢাকা
২১ জুলাই ২০০৮
গানটা শুনুন এখানে... এটা reproduced আর অন্য একজনের গাওয়া...

Thursday, July 17, 2008

হৃদি নিরুদ্দেশ

ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম মুয়াযযিনের আযানে। উঠেই দেখি বাইরে ঝু...উ...উ...উ...ম বৃষ্টি। মনটাই উদাস হয়ে গেল। নামায পড়লাম। বৃষ্টি পড়ছে তো পড়ছেই... একটানা সুরে। ঢাকা শহরের বাসার ছাদে বসে ঝুম বৃষ্টির গান শোনায় তেমন মজা নাই... খালি মনে হচ্ছিল পল্লী গাঁয়ের কথা... ছোটকালে কি মজাটাই না করতাম... বৃষ্টি শুরু হলেই দিতাম দৌড়... বৃষ্টিতে ভিজে, আমাদের পুষ্করিণীতে গোসল করে যখন বাড়িতে ফিরতাম, আম্মার কি যে বকুনিটা খেতাম... আহা! সেসব কিছুই এখন আর নাই... এসব ভাবতে ভাবতে একটা কবিতা লিখে ফেললাম...


এই কবিতাটা স্বরবৃত্ত ছন্দে লেখা... এই ছন্দে পর্বগুলো সাধারণত ৪ মাত্রার করে হয়... তবে পংক্তির পর্ববিন্যাস অসমপর্বিক আর এটিতে অতিপর্বের ব্যবহার লক্ষণীয়... কবিতাটা এখানে তুলে দিলাম।






হৃদি নিরুদ্দেশ

জাহিদ মাসুদ

আজি হৃদয় আমার হৃদির মাঝে নাই।
হৃৎপাখিটা খাঁচার শিকল ভেঙ্গে গেল কই?
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজে মরি,
তন্ন তন্ন মনপিঁজরে ঘুরি।
কই তাহার দেখা নাই।
তোরা কেউ কি আছিস, কইতে পারিস ভাই,
কোথায় গেলে কী করিলে খোঁজটি তাহার পাই?
কোন পাথারে হায়রে তারে যাচি?
ঘুরছে সে যে কোথায় নাচি নাচি।
আজি মুখর আষাঢ়, আকাশ ভেঙে পড়ে।
পুকুর-ডোবা, সাগর-নদী গগণ-জলে ভরে।
দিবারাত্রি দুপুর-সকাল
ঝুমুর ঝুমুর কাহারবা তাল।
এই সুরের তালে মিষ্টি লয়ে বিষ্টি বাজায় গান।
আমি জানলা-পাশে রইছি ব'সে, শুনছি সে সুর-তান।
কিন্তু আহা! মনটা কাহাঁ হারিয়ে গেলো মোর?
আজ ঘরের কোনায় রইতে বোধ'য় চায় না পরাণ ওর।
বুঝি তাই সে আজি খাঁচা ছাড়ি বেড়ায় চষি দেশ,
মেঘের সঙ্গী হয়ে রঙ্গি চলে ভঙ্গি তাহার বেশ।
সে আজ বাদলা দিনের রূপের খোঁজে চলছে নিরুদ্দেশ।

১৬ জুলাই, ২০০৮
বুধবার, ধানমন্ডি


মধুর তোমার শেষ যে না পাই প্রহর হল শেষ...
জাহিদ

Saturday, July 5, 2008

A rainy post

Goto 4-5 din dhore khali bristi hochchhe Dhakay. Ei je aj-gotokal weekend katalam, basa theke ber howa i holo na temon. Saradin shudhu bristi. Sawan barse tarse dil...

Saradin basay bose janalar grill dhore shudhu borshar rimjhim shobdo shono... uh! ki je romantic!! ar tar sathe jodi shona jay rabindranath er kaljoyi borshar gaan...

এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘন ঘোর বরিষায়
এমন দিনে মন খোলা যায়
এমন মেঘস্বরে বাদল ঝরোঝরে
তপনহীন প্রাণ তমসায়।

kingba ...

আজি ঝরোঝরো মুখর বাদর দিনে
জানিনে, জানিনে
কিছুতে কেন যে মন লাগে না।

Kingba Hemanta Mukherjee er kaljoyi...

এই মেঘলা দিনে একলা
ঘরে থাকে না তো মন
কাছে যাব কবে পাব
ওগো তোমার নিমন্ত্রণ।

borshar rimjhim shobder mohe eshob gaan shunle pran utola na hoye pare?

amar bari Rangpur e phone korlam... jigges korlam bhaloi to bristi hochchhe mone hoy okhane, na?
bollo, na! bristi to hochchhe na! rod e bhorpur.
ami obak holaam. Dhakay saradin bristi, 4-5 din dhore bristi.. obiram, othocho okhane 2 din dhore rod! ki contrast!

obosso ami jokhon office e thaki, tokhon bujhte pari na -baire bristi hochchhe kina :(
office emnite AC, tar upor natural light nei...
tobe lunch er somoy bristi te bhije Del Vistay [Del Vista te amadere ekta cafetaria achhe] jete khubbi moja.. ami ar Monir [amar colleague ebong friend] prottekdin jai..eksathe... khub bhallage :)

ami obosso er majhe ekta kobita likhe phellam. kobitata matrabritto muktok chhonde lekha- mul porbo 8 matrar, chorone matra binyas 8, 8+7, 8+3. ei muktok chhonder abiskarok Rabindranath Tagore. ei chhondota okkhorbritto o swarabritto te o cholte pare. osadharon ek chhondo... my favourite chhondo. kobitata post korlam ekhane... sobaike onurodh : leave comments, please. It'll inspire me more than you know.


বাহিরেতে বারিধারা
-জাহিদ মাসুদ


বরিষণ মুখরিত আজিকার প্রভাতে
নিভৃতচারী এ মন তফাতে
ভাবে কারে, কে সে জন,
কাছে কারে ডাকে মন,
গৃহকোণে বসে বসে কবিতার সভাতে।
বাহিরেতে রিমিঝিমি বারিধারা ঝরিছে।

গগণে ঘনিছে মেঘ
শহরে জাগিছে লোক
আমি কেন একা জেগে
ভেজা রাত সারা করে
এখনো ভাবিছি তারে কবিতার চরণে?

সুবহে সাদিক গেলো,
পাখি ডাকা শেষ হলো।
আমি তবু বসে বসে
কাগজে কলম চষে
লিখে চলি তারে ভেবে বরষার সকাশে।

সে কি জানে, জানে কি সে,
কিসে এ পরাণ হাসে;
কী করিলে এ জীবন পূর্ণতা পায়?
কী বাসনা পুরো হলে,
কোন জনে কাছে পেলে,
ভরো ভরো বরিষণ ভাবে ভরে যায়?

হায় হায়! সে তা জানে!
জানে সে কী চাহে প্রাণে।
তবুও সে খেলাছলে দূরে বসে রহিছে।
আমারে সে কাছে ডেকে
মিছে আশা দিয়ে শেষে
অমিত যাতনা দিয়ে দূরে ঠেলে দিয়েছে।
মিলন-আশার সব দীপ নিভে গিয়েছে।

তবু কেন ভাবি তারে?
বাহিরে শ্রাবণ ঝরে।
কে জানে যে সে কারণ, আমি নাহি জানি সে।
বাহিরেতে রিমিঝিমি বারিধারা ঝরিছে।


Be inspiring
Jahid

Friday, May 30, 2008

Back with a poem

Back here! Onekdin por abar blog likhte boslam... Besh koyek soptaho dhore amar monta bhalo nei [karonta na hoy nai ba bollam :)], tai likhte cheyeo lekha hoy nai :) Tobe goto koyekdin dhore besh koyekta movie dekhe ar golper boi pore monta ektu halka korar chesta korlam... mone hoy kaj hochchhe ...

Je movie gulo dekhlam :

1. Lord of the Rings trilogy

[Actually I became a great fan of JRR Tolkien, the great writer. I like so much his great works on the Middle-Earth, a continent of Arda, a fictitious world in a fictitious universe! I have a hardcopy of his book The Lord of the Rings; I planned to read it and other works of Tolkien like The Hobbit, The Silmarillion, The History of the Middle-Earth and last but not the least The Atlas of the Middle-Earth by the famous cartographer Karen Wynn Fonstad, to realize the events more illustratively. I'm also learning the artificial language created by Tolkien for his fictitious world like Quenya and Sindarin.




[The 9 members of the Fellowship of the Ring, from upper left clockwise - Aragorn, Gandalf, Legolas, Boromir, Gimli, Pippin, Merry, Frodo and Sam. Finally the fellowship breaks into only two members - Frodo and Sam.]

The live-action movies are directed by Peter Jackson with the help of the New Zealand government. The breathetaking places where they were shot are in the great lands of New Zealand... I wish I could have visited there one day. The protagonists are Elijah Wood(Frodo Baggins, a hobbit), Viggo Mortensen (Aragorn, son of Arathorn, the in-exile heir to the throne of Gondor, a man), Liv Tyler (Arwen Undómiel, an Elf, daughter of Elrond, in love with Aragorn), Orlando Bloom (Legolas, an Elf), Ian McKellan (Gandalf, the wizard) and the antagonist Christopher Lee (Saruman). I love the theme song "May it be" by Enya.]

2. সাগরিকা (Sagarika)

[This is 1956 Bengali film of Kolkata, performed by the legendary উত্তম কুমার (Uttam Kumar) and সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen). I am too fond of this couple to express in words. I nearly saw all the movies of the them. These movies are 40-50 years old but they really passed the test of time and went classics.]

3. Pirates of the Caribbean

[I've heard so much of these films, but never had the opportunity to watch them. I am really impressed watching the first one - The curse of the Black Pearl - no wonder it went blockbuster. The story is based on the Walt Disney theme park Pirates of The Caribbean. Protagonsits are - Johnny Depp, Orlando Bloom and Keira Knightely. By the way, in her real life Keira Knightley had a Dyslexia in her early life, it's the disease Ishaan Nandakishore Awasthi has in the Hindi film Taare Zameen Par (तारे ज़मीन पर, Stars on Earth). Now i'm watching the rest 2 sequels of this trilogy. Hope I'll enjoy them too.]

Ar je boita porlam, seta hocche none but the great শেষের কবিতা (Shesher Kabita) by Rabindranath Tagore. I loved it so much ... but the end is a tragic one(milonattok noy, biyogantok). Age onekbar porte chaisilam, kintu pora hoye i othenai.[To download a copy of it (PDF) click here. I'm afraid you have to sign up there first.]

And I wrote a poem without a name. I post it here for you ... [I'm afraid it's got a sad tone :(]

জানিনে কভু কি ছিনু তব আপনার।
আজি এ ধরাতে তুমি-আমি বুঝি পর।
চোখে বারি, মনে দুখ-
যদিবা এরূপে হয়, হোক তব সুখ;
আপনার হয় হোক
মলিন-বিধুর মুখ।
মনে মেনে নেব মোর হোতোই খালি এ বুক।

Pray for me
Jahid